Posts

Showing posts with the label ছোট গল্প

মধুকাল

  মধুকাল রাজ চক্রবর্তী   জানলার বাইরে পাতাবাহার গাছটায় একটা ফিঙে রোজ সকালে এসে বসে। সুকান্ত চোখ খুলেই সেটা দেখতে পায়। অলস চাহনিতে তাকিয়ে থাকে দু’জন একে অপরের দিকে। ফাঁকা অগোছালো ঘরটায় প্রাণের আর কোন স্পন্দন নেই। সুকান্ত জানে তাকে তাড়া দেওয়ারও কেউ নেই। খোলা জানলাটা দিয়ে সামনে তাকালেই ছোট্ট উঠোন । বাড়ির বাউন্ডারি পাঁচিলের ওপাশে সরু পিচের রাস্তাটা চলে গেছে আপন খেয়ালে। রাস্তার ওপারে কিছুটা ফাঁকা জায়গার পরেই মাঝারি মাপের একটা পুকুর। আগে সকাল হলেই পাড়ার কচিকাঁচার দল দাপিয়ে বেড়াত পুকুরের জলে। এখন বেশিরভাগটাই কচুরিপানায় ভর্তি। সুকান্ত আড় চোখে দেওয়ালের ঘড়িটার দিকে একবার তাকায়। প্রায় আটটা বাজতে চলল। এবার উঠতেই হয়। এরপর টাইম কলের জল চলে গেলে সেই বারোটার আগে আর আসবে না। ফিঙেটা তার লম্বা ল্যাজ দুলিয়ে বার দু’য়েক শিস দিয়ে উড়ে গেল দক্ষিণে ঘোষেদের বাগানের দিকে। যেন বলে গেল, কাল আবার দেখা হবে। সকালে এক কাপ চা না খেলে দিনটা ঠিক শুরু হতে চায় না সুকান্তর। কিন্তু নিজের আলসেমিতে সেটা প্রায় দিনই হয়ে ওঠে না। মোড়ের মাথায় নিকুঞ্জদার চায়ের দোকান ভরসা। এই সময়টা আবার বাজার ফেরত বাবুদ...

আয় বৃষ্টি ঝেঁপে

Image
  আয় বৃষ্টি ঝেঁপে রাজ চক্রবর্ত্তী   ইউনিভার্সিটি থেকে বেরিয়েই আকাশের গম্ভীর ভাবটা চোখে পড়ল অদিতির । চারিদিকে থকথকে কাদার মতন মেঘ ছড়িয়ে রয়েছে। খাতায় কলমে বর্ষা এসে গেলেও এখনও বৃষ্টির দেখা পাওয়া যায়নি একদিনও। আজ সকালেও ঝলমলে রোদ দেখেই বেরিয়েছিল বাড়ি থেকে । সঙ্গে ছাতাও আনেনি অদিতি । তার ছাতা হারাবার রোগটা বেশ পুরোনো। তাই ছাতা বইতে তার বড়ই অনিহা। খুব বিপদে না পড়লে ঐ বস্তুটি সে বরাবর এড়িয়েই চলে। ছাতার যে তার খুব প্রয়োজন হয় এমনটাও নয়। রোজ সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বড় রাস্তায় আসতে তিন চার মিনিটের বেশি লাগে না। আর ইউনিভার্সিটির গেটেই বাস নামিয়ে দিয়ে যায়, কাজেই.....। অদিতির জীবনের বৃত্তটা বাড়ি আর ইউনিভার্সিটির মধ্যেই ঘোরাফেরা করছে আজ পনেরোটা বছর। এর বাইরে অন্য কিছু করার কথা সে ভাবে না। আর এখন তো বয়েস প্রায় পয়তাল্লিশ পেরিয়ে গেল। শরীরও আজকাল নিতে পারে না বেশি। তার মনে একটাই চিন্তা মাথাচাড়া দিয়ে উঠল। আজ ঘুম ভাঙতে একটু দেরী হয়ে গিয়েছিল। মায়ের শোওয়ার ঘরের জানলাটা সকালে খুলে চলে এসেছে ভুল করে। আজকাল প্রায়ই এমন হচ্ছে অদিতির । রান্নায় নুন দিতে ভুলে যাচ্ছে, ঘরের পাখা চালিয়ে...

শান্তনুর সময়

Image
সারাদিনের হাড়ভাঙা খাটুনির পর বাড়ি ফেরা । এই সময়টা শান্তনুর নিজস্ব । শিয়াল দা থেকে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে প্রায় দেড় ঘন্টা লাগে । অফিস থেকে একটু আগেই স্টেশনে পৌছায় সে । তারপর অপেক্ষা করে থাকে । বোর্ডে প্ল্যাটফর্মের নম্বরটা ভেসে উঠলেই পরি কি মরি করে ছুট । যে ভাবেই হোক জানলার ধারে একটা সিট চাই । প্রায় দিনই পেয়ে যায় । মাঝে মাঝে এর জন্য কিছু খেসারতও দিতে হয়। কোন দিন হয়তো পিছন থেকে অন্য লোকের ধাক্কায় কনুইটা একটু ছড়ে গিয়ে নুনছাল উঠে গেল , কিংবা জামার একটা বোতাম বোঁ করে ছিঁড়ে মানুষের ভিড়ে গোত্তা খেতে খেতে হারিয়ে গেল। একদিন তো পা থেকে একপাটি জুতো খুলে লাইনের তলায় চলে গেল। সেদিন খালি পায়েই বাড়ি ফিরতে হল। কিছু করার নেই। এক-পায়ে জুতো পড়ে তো হাঁটা যায় না! আর মাসের শেষে নতুন জুতো কেনার কোন প্রশ্নই আসে না। তবু সে রোজ লড়াইটা করে। কোন মতে একবার সিটটা পেয়ে গলেই শান্তনু নিশ্চিন্ত । তার নিজস্ব সময় শুরু এখন । এবার সে মনে মনে চিন্তা করবে । নানান চিন্তা । কখনও অফিসের বড়বাবুর মুন্ডপাত করবে , কখনও স্ত্রী রমা - র । ছেলেটা উচ্ছ...